Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

ছায়া_মানব

পর্ব-১ 

অচেনা নাম্বার থেকে একটি মেসেজ,' তোমার বয়ফ্রেন্ড আজ তোমাকে গনধ*র্ষ*ণ করতে যাচ্ছে। নিজেকে বাঁচাতে হলে বাড়ি থেকে বের হয়ো না।'


অহনা সাজগোজ করছিল বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাবে বলে। তখনি মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠে মেসেজটি। সেটাকে উপেক্ষা করে আবারো সাজায় মনোনিবেশ করে। হয়তো কেউ দুষ্টামি করছে তার সাথে, সে ভেবেই তৈরি হয়ে নেয়। 


বের হতেই আবার মোবাইলে মেসেজ আসে,' তারা এগারো জন। গনধর্ষণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে এখনি সিদ্ধান্ত বদলাও। না হয় তোমার সম্মান নয় কেবল তুমিও বেঁচে ফিরতে পারবে না।'


অহনার রাগ হয় অচেনা সেই লোকের উপর, যে কিনা ভয় দেখাচ্ছে। মোবাইলটাকে সাইলেন্ট করে দেখা করতে যায় বয়ফ্রেন্ড অর্ণবের সাথে।


পার্কে পৌঁছাতেই অর্ণব বলল,' চলো এক জায়গায় যাব।'


' কোথায়?'


' আমার সাথে চলো।'


অহনা কথা না বাড়িয়ে অর্ণবের সাথে চলতে থাকে। পৌঁছে যায় নিজের এলাকা থেকে কিছু দূরে একটি জঙ্গলে। সুনসান নীরবতায় ভয় পায় অহনা। অর্ণবের শার্ট খামচে ধরে বলে,' এ তুমি কোথায় নিয়ে এলে আমায়?'


'‌আর একটু বেবি। কিছুক্ষণ পর‌ই দেখতে পাবে আসল মজা।'


' এটাতো জঙ্গল। এখানে কি এমন করবে তুমি?‌ বড় কোনো সারপ্রাইজ কি আছে?'


' হ্যাঁ, গেলেই দেখবে। অনেক বড় সারপ্রাইজ।'


তারা পৌঁছে যায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে‌। চারিদিকে কেমন বিদঘুটে অন্ধকার। পঁচা গন্ধ আসছে অনেকটা। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠল। উপরটা পরিপাটি তবে একখানা ভাঙা আয়না আর বিছানা ছাড়া আর কিছুই চোখে পরছে না। অহনা বলল,' এখানে কি? কিছুতো নেই। আমরা এখানে কেন এলাম? আমার ভয় করছে অর্ণব। প্লীজ চলো বাড়ি চলে যাই।'


' একটু পর চমক দেখবে সবুর করো।'


দেখতে পেল একে একে দশজন তরুণ প্রবেশ করল। অহনার আচমকা অচেনা মেসেজের কথা মনে হয়। সেও বলেছিল এগারো জন লোক তাকে গনধ*র্ষ*ণ করবে। বুকটা ধ্বক করে উঠল তার।

' অর্ণব, এরা কারা?'


' এরা আমার বন্ধু। মজা হবে আজ।'


'আমি বাড়ি যাব। আর এক মুহূর্তও এখানে না। তুমি গেলে চলো না হয় আমি একা গেলাম।'


একজন লোক এগিয়ে আসে অহনার দিকে,' কোথায় যাচ্ছ সোনা? তোমার জন্য‌ইতো আমরা এখানে এলাম। তুমি গেলে মজা করব কার সাথে?'


বলেই শয়তানি হাসিতে ফেঁটে পড়ল তারা। অর্ণব‌ও হাসছে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হতে লাগল অহনার। বার বার মনে আসছে অচেনা মানবের কথা। যদি তার কথা শুনে না আসত, তাহলে এতো কিছু ঘটত না।


অর্ণবসহ এগারো জন পুরুষ অহনার দিকে এগিয়ে আসছে। অহনা নিজের হাতের ফোনটার দিকে তাকায়। রাগের বশে অফ করে রেখেছিল। তারাতাড়ি অন করতেই অর্ণব তার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে বিছানায় ছুড়ে মারে। পরক্ষণেই এগারোজন এগিয়ে আসে আরো কাছে। অহনাকে বিছানায় ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। অহনা পিঠের নিচে মোবাঈলের অস্তিত্ব টের পায়। মোবাইল অন করতেই দেখতে পায় একটি মেসেজ,' তোমার পেছনে, বিছানার পাশে একটি স্প্রে আছে। সবার মুখে স্প্রে করো। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।'


অহনা কোনো কিছু না ভেবে আশেপাশে তাকায়। সত্যি সত্যি একটি স্প্রে দেখতে পায়। হাতে নিয়েই তাদের চোখে মুখে স্প্রে করে। তারাহুড়ো হয়ে ঘরটি থেকে বেরিয়ে যেতেই অর্ণব ওর হাত ধরে ফেলে,' কোথায় যাচ্ছিস? তোকে ভোগ না করে এখান থেকে ছাড়বো না। পালাতে পারবে না।'


অহনা অর্ণবের হাতে কামড় বসায়। ব্যথার চোটে অর্ণব তাকে ছেড়ে দেয়। সিড়ি দিয়ে নামতেই আরেকজন ওর হাত টেনে ধরে। টেনে আবার উপরে নিয়ে যায়। ঠাসস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়। অহনা ছিটকে পড়ে বিছানায়। চিৎকার করেও লাভ নেই এখানে। এই পরিত্যক্ত জায়গায় কেউ শুনবে না তার আর্তনাদ। পশুগলো পুনরায় ঝাঁপিয়ে পরতেই পুলিশ এসে হাজির হয়।

পুলিশ দেখে সবাই ভয়ে পালাতে থাকে। অর্ণবের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে,' শা/লার পুলিশ খবর দিল কোন মা*?'


পুলিশ সবাইকে ধরে নেয়। অহনা বেঁচে যায়। একজন এস‌আই অহনার কাছে এসে বলল,' ভাগ্য করে এমন হাজবেন্ড পেয়েছেন। আজকালকার হাজবেন্ড ওয়াইফের মনের মিল থাকে না কখনো। আপনার স্বামীতো অফিস থেকেই আমাদের কল করে বলল, তার নাকি আপনাকে মনে পড়ছে, কলটাও ধরছেন না। ওনার মনে হচ্ছিল আপনি বিপদে আছেন। আমাদের বলল, আপনাকে তারাতাড়ি উদ্ধার করতে। কিন্তু উনি আমাদের সাথে আসলেন না। বেষ্ট অফ লাক, এমন স্বামী পেয়েছেন আপনি। এখন আপনি চলে যান। আপনি নিরাপদ, আমাদের গাড়ি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে।'


অহনা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। মনে মনে ভাবতে থাকে। কে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে অহনার স্বামী পরিচয় দিল? কেন সে সাহায্য করছে? তাকে চিনল‌ই বা কি করে? অনেক প্রশ্ন মনে হতে থাকল।

অহনা ছুটে গেল সেই এস‌আই এর কাছে।

'স্যার, আপনি কি সেই লোকের নাম্বার দিতে পারবেন, যে আপনাকে বলেছিল আমাকে সাহায্য করতে?'


ইন্সপেক্টর অবাক হয়,' আপনার স্বামীর নাম্বার আপনার মনে নেই?'


অহনা আমতা আমতা করে বলল,' আসলে সে নতুন সিম নিয়েছে। নাম্বারটা আমার মনে নেই। আপনি এখন দিলে উপকৃত হতাম। না হয় বাড়ি গিয়ে তাকে জানাবো কি করে?'


ইন্সপেক্টর নাম্বার দিয়ে দেয় অহনাকে। নিজেও কল করে সেই অপরিচিত লোককে। আশ্চর্য ব্যাপার! ফোন বন্ধ বলছে। কয়েকবার ট্রাই করেও কোনো উপায় হয় না।

ইন্সপেক্টর বললেন,' বাড়ি গিয়ে ওনাকে খবর দিয়ে দেবেন। আমাদের এখানে কল লাগছে না।'


' জ্বী স্যার।'


অহনা বাড়ি গিয়েই দেখে এটা সেই নাম্বার, যে নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছিল। কল করে, কিন্তু বন্ধ বলছে। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে রেখে দেয়। কিন্তু মনে খটকা রয়ে গেল।


অহনা বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আবার মেসেজ আসে। ফোন ধরে দেখে সেই অজানা নাম্বার থেকে মেসেজ,' দক্ষিণের জানালাটা বন্ধ করো। বাতাস ব‌ইছে খুব। ঠান্ডা লেগে যাবে।'


অহনা সাথে সাথেই নাম্বারটায় কল করে। বলতে না বলতেই আবার ফোন বন্ধ বলছে। অহনা তারাতাড়ি বাইরে যায়‌। চারিদিকে নিরবতা, কেউ নেই কোথাও। তাহলে সেই অপরিচিত লোক জানল কিভাবে তার জানালা খোলা? উত্তর ছাড়া হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খায় অহনার মাথায়।


বিকেলে উঠে ওয়াশরুমে গোসল করতে যেতেই আয়নায় দেখতে পায়.....



২টি মন্তব্য:

SA K IB বলেছেন...
এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
নামহীন বলেছেন...

Gd Story

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...