Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

 


অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে,

'‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। কিন্তু এখন দেখছি ঘৃণাও করো।'


' অযথা কথা বাড়াবেন না। আমি মোটেও আপনাকে তেমন কোনো কথা বলিনি। চলে যান।'


' চলেতো যাব, কিন্তু তোমাকে সাথে নিয়ে।'

মতি চোখ মেরে লোকটাকে আসতে বলল। লোকটা এসেই অহনার মুখে রুমাল চেপে ধরে। জ্ঞান হারিয়ে অহনা লুটিয়ে পড়ে। মতি পৈশাচিক হাসি দিয়ে অহনাকে সাথে নিয়ে চলে যায়।


রাত হয়ে এসেছে, অথচ অহনাকে পাওয়া যাচ্ছে না। রোস্তম পায়চারি করছে ঘরে। বিকেলের পুরো সময়টা খুঁজে কাটিয়েছে। এই মুহূর্তে থানায় ডায়রি করতে পারে না। লোকে মন্দ কথা বলবে। কাল দেখতে আসবে, আর আজ মেয়ে পালিয়েছে, বিষয়টা মানুষের কানে যাওয়ার আগেই অহনাকে খুঁজে পেতে হবে। ময়না রোস্তমের পাশে এসে দাঁড়ায়। বলল,

'চাচা, আমি অহনা আপাকে দেখেছি বিকেলে, এরপর থেকে আর দেখিনি। শেষবার তার ঘরে যেতে দেখেছি। বের হতে দেখিনি ঘর থেকে, আমিতো বাইরে ছিলাম, তবুও খেয়াল ছিল। ভেতরে ঢুকল কিন্তু আর বের হলো না। আমার কেমন জানি খটকা লাগছে।'


' কি বলতে চাইছো তুমি? তার মানে.... কেউ তাকে ঘর থেকে..'


' না চাচা, আমি এমনটা বলিনি। এখনতো সব বিপদ শেষ। এখন কেউ কেন ঘর থেকে নিয়ে যাবে?'


' নিশ্চয় আমার মেয়েকে কেউ অপহরণ করেছে। কিন্তু এখন আমি কি করব? আল্লাহ না করুক, যদি মেয়েটার কিছু হয়ে যায়?'


' এমন কথা বলবেন না। অহনা আপা ঠিক চলে আসবে।'


সবার মন ভার। বাইরের লোককে জানানো হয়নি। অহনার ঘরে দরজা লাগিয়ে বলা হয়েছে, পরদিন অনেক কাজ তাই এখন ঘুমাচ্ছে। ঘুমের কথা বলে পুরো বিকেল কাটিয়ে দিল। এখন‌ও আসছে না।


মতি অহনাকে নিয়ে যায় একটি বাংলোতে। চারিদিকে গাছপালায় আবৃত জায়গাটার মাঝ বরাবর বাড়িটি। রাত গভীর হতেই অহনার জ্ঞান ফিরে আসে। পাশেই দেখতে পায় মতি সিগারেট টানছে। নাকে গন্ধ আসতেই অহনা কাঁশি দিয়ে উঠে। 

সাথে সাথেই মতি সিগারেট ফেলে দিয়ে অহনার কাছে আসে।


অহনা নিজেকে বড় একটি খাটে আবিষ্কার করে। উঠেই বলল,' আমি এখানে কেন?'


মতি গলা পরিষ্কার করে বলে,' এখানেই থাকার কথা ছিল তোমার।'


'আপনি এখানে এনেছেন তাই না?'


' জানার পরেও আবার জিজ্ঞেস করো কেন?'


' আমি বাড়ি যাব।' জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলে,' রাত হয়ে গেছে অনেক। বাবা চিন্তা করছে হয়তো। এতক্ষণে সবাই জেনে গেছে। কি করলেন আপনি?'


' এছাড়া উপায় ছিল না। কি করতাম আমি? নিজের ভাইয়ের সাথে তোমার রোমান্স দেখতাম?'


' দরকার হলে সেটাই করতেন। আমার পেছনে কেন পড়ে আছেন? আমি কি ক্ষতি করেছি আপনার? আমার দোষটা কি?'


' তোমার একটাই দোষ, তুমি সুন্দরী। তুমি এতটাই সুন্দর যে সারাজীবন তাকিয়ে থাকলেও নজর লাগবে না কখনো।'


'আপনার নজরটাই খারাপ। কখনো কাউকে ভালো চোখে দেখেন না। কাউকে মন দিয়ে ভালো নজরে দেখলেই বুঝতেন প্রতিটা মানুষ কত সুন্দর।'


' তুমি ছাড়া আর কেউ সুন্দর না। তোমার মধ্যে কোনো খুঁত নেই। সবার মাঝেই কিছু না কিছু খুঁত থাকে। তুমি নিখুঁত। তাই তোমাকেই চাই।'


' মানুষ তার খুঁতের জন্য‌ই নিখুঁত। আপনার মন থাকলে আমি হয়তো একটু হলেও গলতাম। এখন তা মনে হচ্ছে না। আমাকে যেতে হবে। বাবা হয়তো খুঁজে মরছে।'


' সে যাই বলো। কার মধ্যে কি আছে না নেই, আমার সেটা দেখার দরকার নেই। আমার তোমাকে চাই, ব্যাস। আর কিছু লাগবে না। আর এই বাড়িটা দেখছ যে, এটা আমার বাবার তৈরি বাংলো। মাঝে মাঝে বাবা আসেন, আমি আর ভাইও আসি। এখন কেউ আসবে না এদিকে। সবাই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। কেউ আসবে না এখানে। তোমাকে বাঁচাবে কে আমার থেকে?'


' আপনাকে আমি খারাপ ভাবলেও কিছুটা মানবিক ভেবেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আপনার মতো নরপশু আর কেউ নেই। পৃথিবীর খারাপ লোকগুলোর মধ্যে আপনি একজন।'


' কালকেই তোমাকে বিয়ে করব। তুমি রাজী না থাকলেও।'


' আমি আপনাকে বিয়ে করব না।'


' করতেতো তোমাকে হবেই। আমি যে মানব না।'


' আমি এখান থেকে যেতে চাই। যেতে দিন আমাকে। আমি কখনোই আপনাকে চাই না।'

অহনা চিৎকার করে বলে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে,' কেন আমার সাথেই বার বার এমনটা হয়। আমি কি এমন দোষ করেছি, যার জন্য এমন শাস্তি পাচ্ছি? আমি চাই না আর কাউকে জীবনে, আমাকে মুক্তি দাও তোমরা।'


' কি করে মুক্তি দিই তোমাকে?' মতি অহনার কাছে বসে বলল। পরক্ষণেই আবার বলল,' চাইলেই আমি তোমার সাথে এখন যা ইচ্ছা করতে পারি। কেউ বাঁচাতে আসবে না। কিন্তু আমি সেটা চাই না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, তাই চাইবো নিজে থেকে আমার কাছে ধরা দাও।'


অহনা কাঁদে। ঘৃণা ভরা চোখে তাকায় মতির দিকে,

' কাপুরুষ আপনি।'


' হজম করে নিলাম। যা ইচ্ছা বলো।'


অহনা উঠে দরজার দিকে যায়। মতি তার হাত টেনে ধরে,

' তোমাকে বেঁধে রাখিনি কষ্ট পাবে বলে। কিন্তু এভাবে তিড়িং বিড়িং করলে বাঁধতেই হবে। কিছু করার নেই।'


অহনা নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়। মতি বিরক্তিতে 'চ' এর মতো করে শব্দ করে,

'এভাবে লাফাচ্ছ কেন? আমাকে কি শান্তিতে থাকতে দেবে না? আমি আজ পর্যন্ত কখনোই মেয়ে দেখে এতক্ষণ কিছু না করে থাকিনি। তোমাকে বিয়ে করব বলেই কিছু করছি না, সহ্য করছি।'


অহনা দেখে, এসব কথা বলার পরেও চোখে কোনো লজ্জা নেই মতির,

' সব মেয়েদের সাথেই ফ্লার্ট করেন?'


' অনেকের সাথে করেছি। কিন্তু আর করব না। তোমাকে পেয়ে গেছিতো।'


' ঘৃণা করি আপনাকে। আপনি একটা অস*ভ্য লোক, খারাপ লোক, বাজে লোক।'


' অসভ্যতামির কি দেখেছ?। সব করা বাকি আছে এখনো। বিয়েটা করে নিই কালকে, তারপরেই সব অস*ভ্যতামি করব, অপেক্ষা করো। আর যদি এভাবে লাফালাফি করো তাহলে আমি নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলব। কিছু একটা করে বসব তখন।'


অহনা ভয়ে চুপ হয়ে যায়। কোনো কথা বলে না। দু-হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে খাটের উপর গিয়ে বসে।


মাহতিম নিমোকে খুঁজে মরছে। আরেকবার নাজের সাথে দেখা করবে ভেবে নেয়। ইতিমধ্যে নাজের কাছে খবর এসেছে ক্যাপ্টেন নিমোকে কেউ হ*ত্যা করেছে নির্ম*মভাবে। মাহতিম নিজের বাড়ি আসে। মাহতিম কে দেখেই নাজ এগিয়ে আসে,' একটা নিউজ আছে!'


' কি নিউজ?'


' ক্যাপ্টেনকে কেউ মে*রে দিয়েছে।'


' এটা হতে পারে না। এবার আমি কিভাবে সব সামলাবো? উনি আমার একমাত্র ভরসা ছিল।' মাহতিমের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে। 


' শান্ত হয়ে বোস। এত ভাবলে হবে না। তুই স্ট্রং, তুই পারবি একাই সব সামাল দিতে।'


নাজ আর মাহতিম যখন কথা বলছিল তখন শুনে নিল ইশতিয়া‌। পুরো ব্যাপারটা হজম করে সে এপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল।


চলবে......

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...