Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-১৯

 

১৯.

মাহতিম ফিরে আসতেই অহনা তাকে ডাকে। কিছুটা আড়ালে নিয়ে প্রশ্ন করে,' কোথায় ছিলে তুমি? অনেকক্ষণ দেখিনি।'


মাহতিমের চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। অহনা তার চোখে চোখ রেখে বলল,' কি হয়েছে? আবার কি হলো? কাঁদছো কেন?'


' কিছু হয়নি তো। আমাকে যেতে হবে।'


' এই ঘর সন্ধ্যায় কোথায় যাবে?'


' কাজ আছে। যেতেই হবে।'


' আমাকে বলো কি কাজ! আমিও যাব তোমার সাথে।'


'না, কাজটা একান্ত‌ই আমার, আমাকেই যেতে হবে। এই র/হ/স্য শেষ দিতে হবে। খুব তারাতাড়ি সব কিছু থেকে মুক্ত হ‌ওয়া প্রয়োজন।'


' কিসের র/হ/স্য, কি বলছ তুমি? আমি কিছু বুঝতে পারছি না। বুঝিয়ে বলো।'


মাহতিম ওর কাঁধে হাত রাখে,' এইটুকু মনে রাখো, আমার দুটো কাজ, একটা জুড়ে তুমি অন্যটা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি চাই না কেউ জানুক সেটা।'


' আমাকেও বলবে না?‌ কি এমন কথা যেটা আমাকে বলা যাবে না?'


' ভরসা রাখো। আমাকে এখন যেতে হবে, বড় বি/প/দ হয়ে যাবে না গেলে।'


মাহতিম চলে যেতে চাইলেই অহনা তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়,' তুমি এভাবে যেতে পারো না।'


' বোঝার চেষ্টা করো, আমি চাই না আমার ছোট্ট ভুলের জন্য অগণিত প্রাণ চলে যাক। আমাকে যেতেই হবে।'


' এতে কিছু জানি না আমি, আমাকে সব বলো আগে। তারপর যেতে দেব।'


' সময় হলে বলব, এখন সঠিক সময় না আহি। আর একটা কথা, সন্ধ্যায় তোমার বাবাকে হন্তদন্ত হয়ে বেরুতে দেখে পিছু নিয়েছিলাম।'


অহনা অবাক হয়ে বলল,' কেন গেল?'


' মোড়লের ছেলের সাথে তোমার বিয়ে পাকা করে এসেছে তোমার বাবা। তুমি অনেক লাকি, মোড়ল তোমাকে পছন্দ করেছে।'


' কিইই? কি বলছ এসব? তুমি মজা করছ নাতো?'


' আমি কেন মজা করব। এটাতো আনন্দের বিষয়, কষ্ট হচ্ছে এটা ভেবে যে, বিয়েতে আমি থাকতে পারবো না। এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে আমার, যেটা না করলে হয়তো আমি আর কখনোই তোমার সামনে দাঁড়াতে পারব না।'


অহনা আঁতকে উঠে। চোখ সজল হয়ে আসে, তোমার কি সত্যি আনন্দ হচ্ছে?'


মাহতিম চোখ সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে। কান্নাটা হজম করে নিয়েছে ঢোকের সাথে। অহনা আবার বলল,' কি হলো? খুব আনন্দ পাচ্ছ তাই না?'


' হ্যাঁ, আমি খুব খুশি। তোমার বিয়ে হবে, ছেলেটা খুব ভালো। আজকাল এমন ছেলে পাওয়া যায় না‌।'


অহনা ঠোঁট কামড়ে কাঁদে,' আমার কষ্ট হচ্ছে।'


মাহতিম চুপ করে থাকে। অহনা পুনরায় বলল,' আমি তোমাকে যেতে দেব না।'


' যেতে হবেই আমাকে। কেন বুঝতে পারছ না? আমি সাধারণ মানুষ ন‌ই।'


' সে যাই হ‌ও তুমি। আমি তোমাকে ছাড়বো না‌।'


মাহতিম অহনার কাছে এসে দাঁড়ায়, ওর কাঁধে হাত রেখে বলে,' আমি তোমাকে কষ্ট দিতে পারবো না কখনো। যদি কখনো দিয়ে ফেলি, তবে সেদিন যেন আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, তোমাকে কষ্ট দিয়ে আমি থাকতে পারব না কখনো।' 

মাহতিম গলা পরিষ্কার করে অন্যদিকে তাকিয়ে আবার বলল,' তোমার বিয়ে করে নেওয়া উচিত। একজন থেকে ঠকে গিয়ে তুমি বিষন্নতায় আছো, এখন কারো সান্নিধ্যে‌ই তুমি ঠিক হয়ে উঠবে। আমি তোমার খুশি চাই। আমি অনেক খুশি , তোমার বিয়ে হবে খুব ভালো একটা ছেলের সাথে।'


' আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছো না তুমি! এর মানে কি জানো? এর মানে হলো তুমি মিথ্যে বলছ, তুমি মোটেও খুশি না।'


' আমি কতটা খুশি বলে বোঝাতে পারব না।'


' এতো খুশি তুমি? এতদিনের কিছু স্মৃতিও বুঝি তোমাকে কষ্ট দিতে পারেনি?'


' কোনো স্মৃতি মনে রাখিনি আমি। স্মৃতিরা কষ্ট দেয় খুব। মনে রাখতে চাই না।'


' তবে চলে যাও। ধরে রাখব না‌।'


মাহতিমের বুকের ভেতরটা মো/ছ/ড় দিয়ে উঠে। দিশেহারা লাগছে তার নিজেকে। উল্টো দিকে ফিরে তাকাতেই অহনা তার হাত চে//পে ধরল,' সত্যি কি চলে যাবে? আমার কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না। মজা করছ না তো?'


' আমি মজা করছি না।'


অহনা চোখের পানি মুছে নেয়। মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে জিজ্ঞেস করে,' কবে ফিরে আসবে তবে?'


' জানা নেই। নাও আসতে পারি।'


' তার মানে নিশ্চয়তা দিতে পারছ না। কি বোকা তুমি, গুছিয়ে মিথ্যেও বলতে পারো না আমাকে। আবার নাকি ছেড়ে যাবে।'


মাহতিম গোল গোল চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অহনার দিকে। চোখের পাপড়িগুলো পানিতে ট‌ইটুম্বর। নিষ্প্রাণ ঠোঁট দুটো তাকে অহনার দিকে টানছে। নিজের চোখ সরিয়ে নেয়। মনে মনে বলে, এতো সুন্দর তুমি, কখনোই চোখ সরাতে পারিনা। কেন এতো ভালো লাগে তোমাকে? সবাই পেতে চায়, আমিও চাই হয়তো। কিন্তু আমি কি সেই একজন হতে পারব? কখনোই না। আমি তোমার কাছে অদৃশ্য। আমার অস্তিত্ব নেই, আমি তোমাকে পাওয়ার মতো আকাশচুম্বী আশা রাখতে পারি না‌। ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে মাহতিমের। অহনার দিকে থেকে চোখ সরিয়ে মাটিতে নত করে।


অহনা কোনো কথা না বলে লুটিয়ে পড়ে মাহতিমের বুকে। চাতক পাখির মতো অহনাও যেন তার বৃষ্টির সন্ধান পেল।  হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠে,

' আমি কেন এত কষ্ট পাই? সব কষ্ট কেন আমাকেই বেছে নেয়? আমি কেন দুটো দিন শান্তিতে থাকতে পারিনা‌? কষ্ট আমাকে পেতেই হবে।'


মাহতিম শেষ স্পর্শ ভেবে নিজেও জড়িয়ে নেয়। শক্ত করে আলিঙ্গন করে নেয়। অহনা ক্ষান্ত কন্ঠে বলে,' এই বুকের স্পর্শ একান্ত‌ই আমার। এর স্পর্শে আমি হা/রি/য়ে যাই। বার বার ইচ্ছে করে স্পর্শে তলিয়ে যাই, ভীষণ করে। কিভাবে ছাড়বো? পারব না। এই একান্ত সম্পদটাকে এভাবেই জড়িয়ে ধরে রাখতে চাই।'

 পরক্ষণেই শান্ত হয়ে যায়। গলা পরিষ্কার করে যোগ করে,'তোমাকে আটকে রাখবো না। কারণ আমি জানি, তুমি ফিরে আসবেই। সঠিক সময়ে‌ই আসবে।'


' এতোটা আত্মবিশ্বাস তোমার?'


' অনেক।'


' যেতে হবে এবার।'


অহনা ছেড়ে দেয়। মাহতিম এগিয়ে যায় সামনের দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।


রোস্তম মেয়ের ঘরে ঢুকে। কাছে এসে বলে,' কিছু কথা বলব তোকে।'


' আমি জানি!'


রোস্তম অবাক হয়ে বলল,' কি জানিস তুই? তুমি মতির সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছ তাইতো?'


রোস্তম চোখ মুখ বিকৃত করে বলল,' নারে। আরিশের সাথে।'


' সে যাই হোক। আমি বিয়ে করব না এখন।'


' কেন করবি না। কারণটাতো বলবি।'


' কোনো কারণ নেই। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।'


রোস্তম চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ। পাশেই ছিল ময়না, বলল,' আপা, তুমি বিয়ে করতে চাও না কেন? আরিশ ভাই অনেক ভালো। আমার স্বামীর সাথে তার খুব খাতির ছিল।'


অহনা আঁতকে উঠে। ময়নার দিকে ঝাঁ/ঝা/লো চোখে তাকায়। কিছু বলার আগেই ময়না বলল,' আপা ভ//য় পেয়ো না‌ আরিশ ভাই এমনি যেত। আমার স্বামীর কোনো কাজ সম্পর্কেই সে জানত না।'


অহনা কিছু বলে না আর। ময়নাকে বলল,' তোমার বাবা কষ্ট পাচ্ছে। তোমার বাড়ি যাওয়া উচিত। পরে না হয় আবার আসবে।'


' হ্যাঁ আপা, কালকেই চলে যাব। লোকের ম*ন্দ কথা শুনবে বাবা, তাই যাচ্ছি না।'


' কে কি বলল না বলল তাতে কান দিতে নেই। তুমি যাবে। কেউ কিছু বললে মুখের উপর জবাব দেবে। মনে রেখো, তুমি যদি চুপ থাকো তাহলে লোকে সেটার সুযোগ নিয়ে আরো অত্যাচার করবে তোমাকে। আর যদি রুখে দাঁড়াও তাহলে কেউ সাহস পাবে না।'


' হ্যাঁ আপা। আমি রুখে দাঁড়াব‌ই।'


রোস্তম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আস্তে করে আবার বলে,' তোর মা থাকলে হয়তো সে বোঝাতে পারত। আমার কথা তুই বুঝতে পারছিস না। আমার তোকে নিয়ে চিন্তা হয়। আমি চাই তুই ভালো একজন জীবনসঙ্গী নিয়ে সুখী থাক আজীবন। আমার এই একটাই আশা। তোর উপর ভরসা করছে এটা। মোড়লরা বড়লোক, তাদের কথা না মানলে কি করবে জানি না, তবে মেনে নিলে সমাজে একটা ভালো সম্মান পাব। তুই আমার এই একটা কথা অন্তত রাখ মা।'


বলেই রোস্তম চলে গেল। অহনার কিছু ভালো লাগছে না। মাহতিম চলে যাওয়ায় মন খা*রা*/প, তার মধ্যে আবার বিয়ে। মেনে নিতে পারছে না। বাইরে বের হয় অহনা। কল পাড়ে গিয়ে চোখে মুখে পানি দেয়।


ঘরের দিকে পা বাড়াতেই কেউ তার মুখ চেপে ধরে। অহনা ছাড়ানোর চেষ্টা করে। 

গম্ভীর স্বর ভেসে উঠে,' তুমি এটা করতে পারো না। কখনোই না.....  


চলবে......

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...