Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-১১



১১.

কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়েই অহনার হৃদয়ে কেঁপে উঠে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,' কে?'


আস্তে আস্তে পেছনে তাকায়। সোহেল দাঁড়িয়ে আছে। এক ঝটকায় অহনা তার হাতটা সরিয়ে ফেলে। সোহেল হাতদুটো বুকের সাথে ভাঁজ করে দাঁড়ায়,

' পালাতে চেয়েছিলে তাই না?'


অহনা কিছু বলে না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। সোহেল চোখ মুখ হিংস্র করে আবার থেমে যায়,

' সুন্দরীদের গায়ে হাত তুলি না আমি, তাদের আদর করতেই ভালোবাসি। কিন্তু সবাই আমাকে হতাশ করে, তারা আমার থেকে পালাতে চায়।'


' শয়তানের কাছে কেউ কখনো নিজ ইচ্ছায় থাকতে চায় না।'


' তুমি ভুলে গেছ, আমার নাম সোহেল।'


সোহেল অহনাকে আবার আগের ঘরটিতে টেনে নেয়। ক্যাবলাকে জোরেশোরে একটা লা*থি দিতেই সে চোখ খুলে। সোহেল চলে যায় বিশ্রী একটা গালি দিয়ে। এবার আর অহনাকে বাঁধা হয়নি। শুধু বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।


ঘরটাতে তেমন আলো নেই। অনেক শীত‌ও পড়ছে হঠাৎ করে। অহনা কান পেতে শুনল, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই অহনা আপনচিত্তে বৃষ্টিতে ভিজে। আজ সুযোগ নেই। শীতে তার দাঁত-মুখ খিঁচে আসে। একটা টিশার্ট আর প্লাজু ছিল শুধু পরনে। কাঁপন আসে শরীরে।


একটু পর‌ই সোহেল আবার আসে। হাতে তাঁর বিরিয়ানি। অহনার সামনে এসেই প্যাকেট খুলে খেতে বলে। অহনা অন্য দিকে ফিরে যায়। সুযোগ পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে,‌ কিন্তু ব্যর্থ হয়। সোহেল সহজেই একহাতে টেনে ধরে ওকে। অহনা স্থির হয়ে যায়। সোহেল ধমক দেয়,''খেয়ে নাও বলছি। না হয় আর কিছুই পাবে না সারাদিন।'


' খাব না বলছিতো।'


' সুন্দরীদের প্রতি আমার একটু বেশি দরদ তাই বিরিয়ানি নিয়ে এলাম। খাও বলছি, না হয় কি করব?'


' আমি খাব না। বন্দি করে এখন খাবার খাওয়ানো হচ্ছে?'


' আহহ্, সুন্দরী, কথা বলো না বেশি, হৃদয়ে লাগে। যদি নিজে না খাও তাহলে আমি খাইয়ে দেব বলে দিলাম।'


অহনা রেগে যায়, তেড়ে আসে সোহেলের দিকে,' তোকে আমি মে/রে দেব। আমাকে অসহায় ভাববি না একদম।'


' একদম না। তুমি অসহায় কে বলেছে? আমিতো পাশেই আছি, তাহলে কি করে অসহায় হলে?'


অহনা চুপ করে থাকে। কিছু বলতে পারছে না। বার বার ভাবছে মাহতিমের কথা। তাকে বেরিয়ে যেতে বলা উচিত হয়নি। এখন কত সমস্যায় পড়ল।


' মেয়ে মানুষ একটু বেশি না বললে শান্তি পায় না। আর সুন্দরী হলেতো কথাই নেই। যাই হোক, একটা কথা বলব।'


সোহেলের কথায় ব্রুক্ষেপ করে না অহনা। নিজেকেই বলল,'সারাক্ষণতো বলেই যাচ্ছিস, মুখ তোর থামছে না, আবার কি বলতে চাস?'


সোহেল অহনার কানের কাছে তার মুখ নেয়। তার কানের পাশ দিয়ে বেয়ে আসা চুলে ফুঁ দিয়ে পেছনে উড়িয়ে দেয়। পরক্ষণেই কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,' খেয়ে নাও পাপি, ময়নাকে দেখতে যাবেতো তুমি তাই না?'


ময়নার কথা বলতেই অহনা বিরিয়ানির প্যাকেট হাতে নেয়। 

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই গোগ্রাসে গিলতে থাকে খাবারগুলো। মরিচ কামড়ে পড়ায় আকাশ-বাতাশ এক করে চিৎকার করে উঠে। সোহেল কানে হাত চেপে ধরে,' কানের পোকা বের করে ফেলবে দেখছি, পানি খাও তারাতাড়ি।'


সোহেল নিজেই পানি এগিয়ে দেয় অহনাকে। তারাতাড়ি খেতে গিয়ে কি একটা অবস্থা হলো। অহনা একদম ঝাল খেতে পারে না। অল্প ঝাল হলেও ম/রে যাওয়ার অবস্থা। অহনা খাওয়া অর্ধেক শেষ করেই বলল,' আমার খাওয়া শেষ, এবার ময়নার কাছে যাব।'


সোহেল শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,' পুরোটা শেষ করতে হবে। আজকে আর খাবার পাবে না, তাই ক্ষুদা থেকে তোমাকে বেঁচে থাকতেই হবে। তোমার মূল্য....'

সোহেল থেমে যায়। 


অহনা কিছু না বলে আবারো খাওয়া শুরু করে। পুরোটা শেষ করে। ঝালের কারণে তার নাক-মুখ জ্বলতে শুরু করে, তবুও শেষ করে। 

' আমার খাওয়া শেষ।'


সোহেল হাসে,' বোনের জন্য এতো টান? ঝাল খাবার খেয়ে নিলে?'


' এতো কথা না বলে নিজের কাজ কর। কাপুরুষের মতো আমার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছিস কেন?'


' এতো বিপদে থেকেও তোমার তেজ কমেনি। অতি দুঃসাহস। পাতানো বোনের জন্য নিজেই ফেঁসে গেলে। জানো না, বাঘের মুখে আছ, যে বাঘ কাউকে ছাড় দেয় না। এক থাবায় পুরোটা হজম করে নেয়, চিবানোর প্রয়োজন মনে করে না।'


' তোর মতো বেড়ালেরা নিজেকে বাঘ ভাবতেই শেখে। তাদের নিজস্বতা নেই। আমাকে আবার বোনের কাছে নিয়ে চল, অন্তত এই পূণ্যটা জীবনে কর, পাপের খাতা ভরে গেছে তোর, জায়গা খালি নেই।'


' বোন? হা হা হা... আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে যাচ্ছি‌।'


অহনা মনে মনে বলল,' মুখ থেকে গন্ধ বের হচ্ছে। কয়দিন দাঁত ব্রাশ করেনি কে জানে।'


' কিছু বললে?'


অহনা না বুঝার ভান ধরে,' ক‌ই কিছু না তো। আপনার কানের পর্দা বেশি মোটা তাই শুনতে পান অনেক কিছু।'


অহনার বন্ধুরা এসে হাজির হয় ইলাশপুর। অহনাদের বাড়িতে আসতেই দেখল রোস্তম ঘরের চৌকাঠে বসে আছে মাথায় হাত দিয়ে। টিকু তার পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,' এই ব্রো, এখানে কোথায় অহনা থাকে?'


রোস্তম চোখ তুলে তাকায়,' তোমরা কারা?'


' আমি টিকু, ওদের নাম জানতে হবে না, আপাতত আমারটাই জেনে নিন। বলুন অহনাকে চিনেন? আপনি কি তাদের কাজের লোক?'


' না বাবা, আমি অহনার বাবা। কিন্তু তোমরা কারা?'


টিকু রোস্তমের ঘাড়ে হাত রেখে কথা বলছিল এতক্ষণ, যখন জানল এটা অহনার বাবা, হকচকিয়ে উঠে। হাত সরিয়ে দেয় তার ঘাড় থেকে। আমতা আমতা করে বলে,' আঙ্কেল আমার অভিনয়টা কেমন হয়েছে বলেন তো?'


' কিসের অভিনয়?'


' একটু আগে আমি আপনাকে বললো বললাম, ফাজলামো করে জিজ্ঞেস করলাম আপনার মেয়ের কথা সেটা আরকি।'


' ওহ, আমি ভেবেছি আজকালকার ছেলেমেয়েদের বুঝি অধঃপতন হলো।'


' স্যরি আঙ্কেল। আমি বুঝতে পারিনি।'


' আমি কিছু মনে করিনি। তোমরা ভেতরে যাও, অনেকটা পথ এসেছ।'


রুমি এতক্ষণ সেলফি নিয়েই বিজি ছিল আর অন্যদিকে ইরা পরিবেশের ছবি তুলতেই ব্যস্ত। হ্যারি কোমড়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে তাদের সবার অবস্থা দেখছিল। 


সবাই ঘরে গিয়ে বসে। রোস্তম তাদের শরবত দেয়। তারা অহনার কথা জানতে চাইলেই সব কথা খুলে বলে। চারজন অবাক হয়ে যায়। এতকিছু ঘটে গেল কিন্তু অহনা তাদের কিছুই জানায়নি। ময়নার কথা কিছুই বলেনি। তবুও তারা ঠিক করে নেয় অহনাকে খুঁজে বের করবে।


সোহেল অহনাকে তিনটা ঘর পাড় করে নিয়ে যায় অন্য একটি ঘরে। সেখানে একটি সিঁড়ি। অহনা এবং সোহেল সেই সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে। দেখতে পায় থানে থানে বাক্স রাখা। বাক্সগুলো খুব বড়, আস্ত মানুষকে ঢুকিয়ে রেখে দেওয়ার মতো। অহনা সেগুলো ধরে দেখতে থাকে। সোহেল হাঁক দেয়,' কি হলো? দাঁড়িয়ে পড়লে কেন? এসো তারাতাড়ি।'


অহনা সোহেলের তালে হাঁটে। একটা ঘরে এসে পৌঁছায়। অহনা ঘরে পা দিয়েই ভেতরে তাকায়। চারিদিক দেখে বলল,'ক‌ই এখানে কি?'


সোহেল উপরে ইশারা দিয়ে দেখায়। অহনা উপরে তাকাতেই চিৎকার দিয়ে উঠে। পা দুটো শীতল হয়ে আসে.....


চলবে......

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...