Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

রবিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-১৬


১৬.

সকালে ফ্রেস হয়েই অহনা ব্যাগ গোছাতে থাকে। রোস্তম এসেই মেয়েকে ব্যাগ গোছাতে দেখে জিজ্ঞেস করে। কিছু বলে না অহনা। তৈরি হয়ে অন্যদের বলল,' তারাতাড়ি রেডি হয়ে নে। আজকেই চলে যাব।'


রোস্তম বাধা দিয়ে বলে,' নারে মা, আর কয়দিন পর না হয় যাবি। এখন যাস না।'


' না বাবা, পরীক্ষা আছে আমার। তুমিও চলো, আমি কি একা রেখে যাব নাকি তোমাকে?'


' আমি এই বাড়ি ছেড়ে কীভাবে যাব। তুই আর দুদিন পর যাস।'


অহনা নারাজ। বাবাকে নিয়ে সে চলে যাবে। হ্যারি বলল,' গ্রামে কখনো আসা হয়না। একদিন অন্তত থাক। এলাকাটা ঘুরে দেখি আমরা।'


' এখানের পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের বিপরীত। এখানে থাকা মানেই বিপদ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে গেলেই ভালো হয়।'


মাহতিম পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। বুকের সাথে হাত দুটো ভাঁজ করে এক পাশে দেয়ালের সাথে ঠেস মেরে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলল না। অহনার দিকে তাকিয়ে আছে সে। অহনা এক নজর মাহতিমকে দেখেই আবার চোখ সরিয়ে নেয়। 

ইরা একদম যেতে নারাজ। রোস্তমকে বলল,' আঙ্কেল, ওকে চলে যেতে বলুন, আমরা থাকব।' তারপর অহনার দিকে তাকিয়ে বলে,' তুই যেতে পারিস, আমরা কিছু বলব না। পারলে এখুনি চলে যা। আমরা থাকব আঙ্কেলের সাথে।'


অহনা চোখ রাঙায় ইরাকে। ইরা দমে যায়। রুমি বলেই ফেলল,' তুই আমাদের বের করে দিতে চাস নাকি তোদের বাড়ি থেকে?'


অহনা করুণ চোখে তাকায় রুমির দিকে,' ছি, কি বলছিস এসব? দেখলি না কতকিছু ঘটে গেল এখানে। আমরা গেলেই মঙ্গল হবে। তোদের কথা ভেবেই ভয় পাচ্ছি। আমার কিছু হয়ে গেলে সমস্যা নেই, কিন্তু তোদের কিছু হলে আমি আঙ্কেল আন্টিকে কি জবাব দেব? তোদের ক্ষতি হোক আমি চাই না। আমাকে ভুল বুঝিস না।'


অহনা মাহতিমের দিকে চোখ দিতেই সে ইশারায় ডাকে। অহনা নজর দেয় না তার দিকে। গোছগাছ প্রায় শেষ। নাস্তা করেই র‌ওনা দেবে। 


অহনা কল পাড়ে যায় হাত-মুখ ধুঁতে। কল পাড় পিচ্ছিল খুব। পা দিতেই উল্টে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হতেই একটি শক্তপোক্ত হাত ওকে ধরে নেয়। মাহতিম বলল,' সামলে চলবে। এতো তাড়াহুড়োর কি আছে?'


' তুমি জানো না, এখানে পদে পদে বিপদ লুকিয়ে আছে। আমাদের যাওয়া উচিত। তুমিও তৈরি হ‌ও।'


' আমি কেন?'


' তাহলে ঠিক আছে, যক্ষ হয়ে এই বাড়ি পাহারা দাও।'


' আমি বলতে চেয়েছি, আমি কি তৈরি হবো?'


' আমিতো ভুলেই গিয়েছি তুমি কখনো ফ্রেস হ‌ও না। সবসময় এক‌ই ড্রেস, কিছু খেতেও দেখি না। অদ্ভুত তুমি! অথচ তোমার কাছে গেলেই কেমন নেশালো গন্ধ পাই। তোমার হরমোনের প্রভাব পড়ে আমার উপর। মানে আমি বলতে চেয়েছি, তোমার গায়ের স্মেলটা আমার ভালো লাগে। আমাকে তোমার দিকে টানে। ইচ্ছে করে সারাজীবন তোমার সাথে ঐ মুহুর্তকে থামিয়ে কাটিয়ে দিই। কিন্তু এটা হ‌ওয়ার নয়। আমি.....'


অহনাকে থামিয়ে দিয়ে মাহতিম বলল,

' তোমার কি বলা শেষ?'


' না আরো অনেক কিছু বলার আছে, সেটা শোনার সময় হয় না তোমার।'


' এখন বলবে?'


' বলব না। তুমি শোনার যোগ্য না।'


' আচ্ছা শুনো!'


অহনা পেছনে তাকিয়ে দেখল ইরা এসে গেছে। ইরা অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল,' একা একা কার সাথে কথা বলছিস? এখানেতো কেউ নেই। তোকে বার বার দেখছি কারো সাথে কথা বলছিস, আদৌ কেউ নেই। বিষয়টা ভাবাচ্ছে আমাকে।'


' এদিকে তাকা!'


অহনা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল একটা বিড়ালকে, বলল,'এই বিড়ালটার সাথে কথা বলছিলাম। গম্ভীর থাকে সবসময়। ইচ্ছে করে তার গলা টিপে দেই।'


' ওফফ্ তোর যা ইচ্ছা কর। আমি যাচ্ছি।'


ইরা চলে যেতেই মাহতিম বলল,' আমাকে কি তোমার বিড়াল মনে হয়?'


' ইশশ্, তার মানে বুঝে গেছ এটা তুমি? আমি কিন্তু বলিনি একবার‌ও। নিজেকেই নিজে বিড়াল বললে।'


' তুমি একটু বেশিই বুঝ।'


' কারণ আমার ব্রেইন ভালো।'


' একদম না।'


' প্রমাণ চাই নাকি তোমার?'


' হ্যাঁ চাই, আমার জানামতে তোমার ঘটে বুদ্ধি নেই।'


' কি প্রমাণ দিতে হবে?'


' বুদ্ধিমান হলে এখান থেকে যেতে না। আর কয়টা দিন থেকে যেতে। বুদ্ধি নেই বলেই চলে যেতে চাইছো!'


' এটা কেমন কথা হলো?'


' যা বলছি ঠিক বলছি। দেখো আহি, তোমার মা চলে গেছে বেশিদিন হয়নি। এখন পিতৃভূমি ছেড়ে চলে গেলে লোকে কথা শোনাবে। তুমি জানো না লোকের কথা কতটা বিষাক্ত হয়। এখানে থাকাটা উত্তম হবে।'


অহনা চমকে উঠে, আহি? আহি কে? তুমি কি আমাকে আহি বলে ডাকলে নাকি?'


মাহতিম আমতা আমতা করে বলে,' আসলে, তোমার নামটা ছোট করে নিয়েছি। অহনা থেকে আহি।'


' ওহ, ঠিক আছে, আমি যাব না। কিছুদিন থেকে যাই আরো। খুশিতো এবার তুমি?'


' বুদ্ধিমানের মতো কাজ করলে।'


' এদিকে আস। আমি কেমন বুদ্ধিমান তোমাকে দেখাবো।'


মাহতিম চলে যায়। আর এক মুহূর্তও দেরি করে না। অহনা হেসে উঠে। 

ঘরে গিয়ে সবাইকে একবার গম্ভীর মুখে পর্যবেক্ষণ করে দেয় অহনা। মুখে হাসি নেই কারো। চলে যাবে ভেবে কষ্ট পাচ্ছে।

অহনা খাটের উপর পা ছড়িয়ে বসে বলল,' বৃষ্টি আসবে আজকে।'


' টিকু বলল,' হ্যাঁ, সেই বৃষ্টিতে মাছ পড়বে প্রচুর, সেটা তুই ধরবি আর গালে ফুরবি।'


' আমরা যাচ্ছি না কোথাও।'


অহনার কথায় সবাই সচকিত হয়ে উঠে। রুমি আয়েশি ভঙ্গিতে বলে,' কি বললি এখন? আমরা যাচ্ছি না ফিরে?'


' কানে এয়ারফোন নেই, তাও শুনতে কষ্ট হচ্ছে নাকি তো। এক কথা দুইবার বলব না‌।'


রুমি মন খারাপ করে নিতেই অহনা তার কাছে এসে হেসে বলল,' চলো এবার, পার্টি করি‌। অনেক মজা হবে।'


অহনার ভিন্ন রূপ দেখে সবাই আনন্দিত হয়ে উঠে। আজকাল তাকে একটু বেশি গম্ভীর বা হাসিখুশি মনে হয়। আগে তেমন ছিল না।


সবাই মিলে বের হয় গ্রাম ঘুরে দেখতে। অহনা সবার থেকে আলাদা হাঁটছে, পেছনে। হ্যারি, টিকু, রুমি, ইরা অনেক এক্সাইটেড। মাঝে মাঝে অহনাকে বলছে, কিন্তু তার কর্ণপাত নেই। একেতো গ্রাম তার আগের পরিচিত অন্যদিকে মাহতিমের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটছে সে‌। 


হাঁটার সময় অহনার মনে হলো কেউ তার পিছু নিয়েছে। পেছন ফিরে দেখল কেউ নেই। মাহতিম তার পাশেই হাঁটছে, বলল,' কি হলো?'


অহনা নিজেকে ঠিক রেখে বলল,' কিছু না।'


আবারো অহনার মনে হলো কেউ পেছনে। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, বাঁশঝাড় অগণিত। কেউ থাকলেও তাকে দেখা যাবে না। অহনা বার বার পেছনে দেখছে। এক পর্যায়ে মাহতিমকে বলল,' তুমি কি পেছনে কাউকে দেখতে পাচ্ছ?'


মাহতিম পেছনটায় ভালো করে চোখ বুলিয়ে বলল,' না, কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।'


' ওহ।'


ইরা অহনার সামনে থাকায় ওর কথা সব শুনতে পায়। একা একা কারো সাথে কথা বলতে দেখে ইরা আরো ঘাবরে যায়। ভাবে, হয়তো জিনে আছর করেছে অহনাকে। না হয় এতবার একা একা কথা বলে কেন? 


অহনা আবারো বিরক্ত হয়, কেউ তার পিছু নিয়েছে সেটা বেশ ভালো বুঝতে পেরেছে। মাহতিম‌ও অহনার দুশ্চিন্তার জন্য সতর্ক দৃষ্টি দেয়। একটু পর‌ই অহনাকে বলল,' কেউ তোমাদের অনুসরণ করছে।'


অহনা ব্রু কুঁচকে ফেলে,' কেউ কেন অনুসরণ করবে?'


' আমার জানা নেই। খুব শিঘ্রই সে সামনে আসবে।'


' কে সে?'

  


চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...