Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-১৪


১৪

অহনার মুখে হঠাৎ মাহতিম শব্দ শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকায়। অহনা সেটা বুঝতে পেরে বলল,' আসলে... আমি...'


' কি আমি আমি করছিস? মাহতিম কে?' হ্যারি জিজ্ঞেস করল।


' ক‌ই কেউ না। ময়নার কথা শুনে হঠাৎ নামটা মুখে আসল।'


অহনা দিকে সবাই সন্দিহান চোখে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নেয়। ময়নার দিকে তাকিয়ে দেখল সে কাঁদছে। অভয় দিয়ে সবটা বলতে বলল হ্যারি।


ময়না চোখ মুছে আবার যোগ করে,' সোহেল আমাকে ধ*র্ষণ করে। আমার শাশুড়ি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল শুধু। রাফিজ ঘরে এসে আমাকে না দেখে পুরো বাড়ি খুঁজে। একপর্যায়ে খুঁজে পায়। সেদিন রাফিজ সোহেলকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমাকে রাফিজ বলল, এসব থেকে দূরে থাকতে। রাফিজ অনুতপ্ত ছিল, নারী পাচারকারী দলের সাথে সে পরিচিত ছিল না, শুধু মেয়েগুলোকে পাহারা দেওয়াই ওর কাজ ছিল। সোহেলের সাথে খারাপ আচরণ করায় রাফিজের খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে খু*ন করে তাকে। আমি আগে জানলে বাঁচিয়ে নিতাম তাকে।

রাফিজ চলে যাওয়ার পর আমি একা হয়ে যাই। সেদিন বিকেলেই সোহেল আমার সাথে বাজে কাজ করে। নিজেকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করি। সবশেষে সোহেলের ফোন আসতেই সে বারান্দায় যায়, সে সুযোগে আমি জানালা বেয়ে পালিয়ে এসেছি। নদীর পাড়ে আসতেই অহনা আপার সাথে দেখা হয়।'


অহনা বলল,' তাহলে সবাই তোমায় মৃ*ত বলছিল কেন?'


ময়না ঢোক গিলে বলতে শুরু করে,' মর্গে থেকে একটা ডেড বডি এনে বলছিল, ওটাই আমি। আমি ম*রে গিয়েছি গলায় দঁড়ি দিয়ে।'


মাহতিম অহনার কানের এসে বলে,' তুমি চাইলে সবাইকে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারি।'


অহনা বলল,' না, এখানে আরো মেয়ে আছে। তাদের খুব বিপদ, আমাদের তাকে সাহায্য করা উচিত।'


' কিন্তু তারা কোথায়?'


' সেটা দেখার দায়িত্ব তোমার।'


মাহতিম চলে যায়। অহনা দেখল সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। টিকু বলল,' তুই নিজে নিজে কার সাথে কথা বলছিলি?'


' ক‌ই, কারো সাথে না তো?'


' আমি দেখলাম। কাউকে বললি কিছু দেখে আসার জন্য।'


সবাই বলল,' হ্যাঁ। এখানে থেকে আবার ভূতে ধরল নাতো?'


এর‌ই মাঝে সোহেল এসে পড়ে। সাথে এসেছে আফতাব জহরু। এতজনকে একসাথে দেখে তার জিভ লকলক করে উঠে। সোহেল সব খুলে বলল। আফতাব বলল,' তাহলে আর সমস্যা নেই। আজ রাতের মধ্যে আরো দু'টো মেয়ে জোগাড় করার কথা ছিল, এখন আর লাগবে না, ওদের দিয়েই হয়ে যাবে। আজ রাতেই আসছে তারা। তৈরি রাখিস এদের।' বলেই আফতাব চলে গেল।


সোহেল অহনাকে বলল,' তোমাকে আমার লাগবেই। তোমাকে ভোগ করে তারপর‌ই পাচার করব। আগে আমি মজা নেব, তারপর টাকা পাব। বিষয়টা দারুণ না?'


অহনা কিছু বলার আগেই তার মুখে রুমাল পেঁচিয়ে দেয়। সবার মুখে একে একে রুমাল বেঁধে দেয়। সোহেল কোমরে এক হাত রেখে বলে,' তোমাদের কিচিরমিচির আর ভালো লাগছে না। একটু চুপ থাকো।'


মাহতিম অহনার কাঁধে হাত রাখে। ভরসা দেয়,' একটু অপেক্ষা করো, আমি সবাইকে উদ্ধার করব।'


ভরসার হাত পেয়ে অহনা দমে যায়। সোহেল তার দিকে যেতেই আফতাব ডেকে উঠে। সোহেল বিরক্তিতে দেয়ালের সাথে হাত দিয়ে আঘাত করে,' শা*লার বাপ শান্তি দিল না। যখনি একটু শান্তি নিতে আসি তখনি কল করবে বা ডেকে নেবে। বাইনঞ্চ* বহুত জালাচ্ছে। ইচ্ছে করছে গলাটা কে*টে দিই।'


সোহেল চলে যায়। মাহতিম অহনাকে বলল,' প্রায় একশটা মেয়ে বন্দি আছে।'


অহনা মাহতিমের দিকে তাকায়,' আমরা কিভাবে ওদের উদ্ধার করবো? তুমি কিছু করলেইতো সবাই দেখে যাবে।'


' ভাবতে হবে।'


মাহতিম ভাবে। পরক্ষণেই বলল,' চিন্তা করো না। সারাজীবন গোয়েন্দা হয়ে কাটিয়েছি, এখন এই সামান্য বিষয়টা আমি সামলাতে পারব!'


' গোয়েন্দা হয়ে কাটিয়েছ মানে?'


অহনার কথার উত্তর না দিয়েই মাহতিম চলে যায়। সোহেল আর আফতাবের কথোপকথন শুনে। বুঝতে পারে, রাতেই মেয়েগুলোকে পাচার করা হবে। কিন্তু অহনাকে কষ্ট দেওয়ার কারণে মাহতিমের চোখ দুটো রক্তিম হয়ে আছে। সোহেল আর তার বাবার সামনে যায়। সোহেলের হাত দিয়ে আফতাবকে থা*প্পর বসায়। আফতাব রেগে গিয়ে ছেলের কলার চেপে ধরে। সোহেল বলছিল, সে ইচ্ছে করে দেয়নি। কিভাবে হলো বুঝতে পারেনি। তবুও আফতাব কয়েক ঘা বসিয়ে দেয়। হনহন করে বেরিয়ে পড়ে আফতাব। সোহেল ভ্যাবলার মতো বসে থাকে। তখনি পেছন থেকে ধাক্কা দেয় মাহতিম।

সোহেল পড়ে গিয়ে ধমক দিয়ে উঠে,' কে এখানে? বেরিয়ে আয় বলছি।' আরো কিছু অশ্রাব্য গালিও দেয়। মাহতিম তাকে দেয়ালের সাথে ছুড়ে মারে। মাথা ফেটে র/ক্ত বের হয়। সোহেল গালিগালাজ করছে, কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছে না। মাহতিম পুনরায় তাঁকে ধাক্কা দেয়। সোহেল হুমড়ি খেয়ে দরজার সাথে পড়ে যায়। কোনরকমে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।


রাত হতেই পাঁচটা মালবাহী ট্রাক এসে হাজির হয় সেই গোপন দরজার কাছে। একে একে সবগুলো মেয়েকে আনা হয়। ট্রাকে তোলা হয় তাদের। সোহেল অহনার কাছে এসে বলল,' কোনো ব্যাপার না, যাওয়ার পথে তোমার সাথে রোমান্স হবে। এখানে তো সুযোগ পেলাম না।'


গা ঘিন ঘিন করে উঠে অহনার। মাহতিম তেড়ে আসতেই অহনা তাকে থামিয়ে দেয়, বলল,' বুদ্ধি দিয়ে কাজ করা উত্তম। ওদেরকে ওদের স্টাইলেই শাস্তি দিতে হবে।'


সোহেল হেসে উঠে,' কার সাথে কথা বলছো? মাথাটা গেছে মনে হয়!'


রুমি, ইরা, টিকু, হ্যারিও চিন্তায় পড়ে গেছে। আজকাল কেন অহনা নিজে নিজে কথা বলে। 


সোহেল অহনার চুলে ফুঁ দিয়ে চলে যায়। মেয়েদেরকে জোর করে ট্রাকে তুলতে থাকে। অহনাকেও তোলা হয় একটি ট্রাকে। 

মাহতিম কিছু করছে না দেখে অবাক হয় অহনা। মাহতিম চুপ করে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাকের ডালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর কিছুই দেখতে পায় না অহনা। এভাবে মাহতিমকে কিছু না করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে তার। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাক চলতে শুরু করবে, কিন্তু মাহতিম এখনো দাঁড়িয়েই আছে।


সকলের মধ্যে আহাজারি। মেয়েগুলো কেঁদে মরছে, অথচ আওয়াজ নেই, মুখ বাঁধা তাদের।


ট্রাক ছাড়ার পজিশন নিতেই অহনা ভয়ে কেঁপে উঠে। মাহতিমকে ডাকতে থাকে।

যখন সব আশা ছেড়ে দিল অহনা, তখন বাইরে থেকে শব্দ পায় গুলির। কান পেতে শোনার চেষ্টা করে। আনন্দে নেচে উঠে সে। পুলিশ ট্রাকগুলোকে ঘিরে ধরেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাইকে উদ্ধার করে। 

অহনা দেখল মাহতিম এখনো আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে বাকি র‌ইল না সেই জানিয়েছে পুলিশকে। ইন্সপেক্টর রিজু সেন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,' এখানে অহনা কে?'


অহনা এগিয়ে আসে। ইন্সপেক্টর বলল,' আরে আপনি সেই না, যাকে কিছুদিন আগে উদ্ধার করেছিলাম? আপনি কিভাবে এখানে আটকা পড়লেন।'


' আমার বোনকে খুঁজতে এসে।'


' যাই হোক, আপনি অনেক সাহসী। আপনার জন্য‌ই আজ এই অপরাধীরা ধরা পড়ল। কবে থেকেই এই গ্যাংটাকে খুঁজছিলাম, বুঝতেই পারিনি আমাদের নাকের ডগায় ছিল।'


' আমি... মানে, বুঝতে পারছি না।'


' আপনিইতো আমাদের কল করে বললেন আসতে।'


অহনার মাহতিমের দিকে তাকায় একনজর, তারপর বলল,' জ্বী আমিই।'


' আপনার হাজবেন্ড কেমন আছেন?'


ইন্সপেক্টরের কথা শুনে সবার চোখ ছানাবড়া। হ্যারি এগিয়ে এসে বলল,' ওর এখনো বিয়ে হয়নি।'


' কি বলছেন আপনি? কিছুদিন আগেই ওনার সাথে আমার দেখা হলো। আজ আবার হলো। এই থানায় কালকেই বদলি হয়েছি আমি।'


অহনা হ্যারিকে বলল,'সবাইকে নিয়ে তুই যা। আমার কিছু কথা আছে ইন্সপেক্টরের সাথে। আমি কথা বলেই আসছি।'


হ্যারি যেতে না চাইলেও অহনা তাকে জোর করে পাঠিয়ে দেয়। তারপর ইন্সপেক্টরকে বলে,' আসলে আমি কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেছি, তাই এরা জানে না।'


' কি বলেন? পুলিশকে বোকা বানাচ্ছেন নাতো আবার?'


' সবাই জানে। শুধু বন্ধুরা ছাড়া। আপনিও জানলেন এখন। আমি তাহলে আসি?'


ইন্সপেক্টর গাড়িতে গিয়ে একজন কনস্টেবলকে বলল,' মেয়েটাকে সন্দেহ হয়। ওর পুরো ডিটেলস্ চাই আমার কালকের মধ্যেই।'


' জ্বী স্যার!'


অহনার মাহতিমের কাছে যায়,

' কি হলো, বাড়ি যাবে না?'


' অবশেষে ধরা পড়ল তারা। যাদের বহুকাল আগেও ধরতে পারিনি আমি।'


' বহুকাল আগে মানে? কি বলছ? তুমি কি এদের চিনতে?'  


চলবে......

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...