Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-১৭


১৭.

গ্রামের পাশের সরু গলি দিয়ে ধান ক্ষেতে আসতেই মোড়লের সাথে দেখা হয়। রোস্তম সালাম দিতেই লোকটা থামে। সবার দিকে তাকিয়ে বলল,' রোস্তম যে, তা কেমন আছো?'


'আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি।'


'এরা কারা? এলাকায় নতুন মনে হচ্ছে।'


রোস্তম গলা নামিয়ে সরল কন্ঠে বলল,' শহর থেকে এসেছে, আমার মেয়ের বন্ধু সকল।'


' মেয়ে ক‌ই? তাকে তো অনেক দিন দেখি না। কলেজে পড়ে না?'


রোস্তম পেছন থেকে টেনে অহনাকে সামনে দাঁড় করালো,' এই যে আমার মেয়ে। অনেকদিন পর গ্রামে পা রাখল। শহরেই পড়ে।'


অহনা সালাম দিল মোড়লকে। সালাম নিয়েই মোড়ল অহনাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে,

' মেয়েতো বড় হয়ে গেছে অনেক। তা কিছু কি ভেবেছ?'


' এখনো ভাবা হয়নি। মা ম//*রা মেয়েটাকে এখন চাপ দিতে চাই না‌।'


' বিষয়টা আমি ভাবব। আসি রোস্তম আলী, আবার দেখা হবে।'


অহনা রোস্তমের দিকে তাকালো,' বাবা, লোকটা তোমাকে কি ভাবতে বলেছে?'


' কিছু না। চল তুই।'


অহনা আবার পেছনে চলে আসে। মাহতিমের মুখটা লাল হয়ে আছে। অহনা তুড়ি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করে,' কি হলো? কি ভাবছ?'


মাহতিম অহনার দিকে তাকায়,' যা তোমার বাবা ভাবছে।'


' বাবা আবার কি ভাবছে?'


' কিছু না। কেউ পেছনে আসছে।'


মাহতিম দাঁড়িয়ে পড়ে। অহনা সবার সাথে তাল মিলিয়ে তাদেরকে চারিদিকটা দেখায়।


পেছন থেকে মতিকে দেখে মাহতিম ভাবার চেষ্টা করে তাকে চিনে কিনা। না চিনে না। কখনো দেখেনি। অহনা পেছনে তাকালেই লোকটা কেমন লুকিয়ে পড়ছে। মাহতিম ভেবে পায় না লোকটা এমন করছে কেন?


অহনাকে গিয়ে বলল। অহনা থেমে যায়। সবাই অনেকটা সামনে চলে যায়। মতি বেরিয়ে আসতেই অহনা তার কাছে যায়,

' সমস্যা কি আপনার? পিছু নিলেন কেন?'


মতি পাশে কাউকে না দেখে বলল,' কাল রাতে একটা বিষয় দেখেছি, বুঝতে পারছি না সত্যি কিনা।'


' কি দেখেছিলেন?'


' আমি দেখেছিলাম তুমি উড়ছিলে আকাশে। আমি অনেকবার খেয়াল করেছি দেখলাম উড়ছিলে। স্যরি তুমি করে বললাম, আসলে তুমিতো এখন আর ছোট না, তাই বললাম।'


অহনা আঁতকে উঠে, বলল,' ঠিক আছে, কিন্তু আমাকে দেখলেন কিভাবে?'


' আমি মানে.... আমার ঘুম আসছিল না রাতে, তাই হাঁটতে বেড়িয়েছিলাম।'


' আর কাউকে কি দেখেছেন?'


' না, তুমি একা। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি না কিভাবে উড়েছিলে তুমি?'


অহনা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো, বলল,' আপনি ভুল দেখেছেন। মানুষ কখনো উড়তে পারে নাকি।'


' আমি ঠিক দেখেছি, এবার তুমি আমাকে সত্যিটা বলবে। কিভাবে তুমি পারলে। আমাকে বলো, না হয় খা/রা//প হয়ে যাবে।'


' এমন কিছুই হয়নি। আপনি কাকে দেখে আমাকে ভাবছেন কে জানে। চোখে দুই চামচ বেশি দেখেন। আমাকে যেতে হবে, বায়।'


' আমি জানি তুমি মিথ্যে বলছ। আমি জেনেই ছাড়ব কিভাবে এই শক্তি পেলে তুমি। এবার দেখো আমি কি করি!'


' কি করবেন? কি//ড ন্যা প করবেন?'


' দরকার হলে সেটাই করব। আমার জানতে হবে।'


অহনা চলে যেতেই মতি তার হাত চেপে ধরে,' সত্যিটা বলে যাও। আমি ভুল দেখিনা কখনো। আমি একা নয় আরো অনেকে দেখেছে, সবাইতো আর ভুল দেখেনি।'


' বাহ, একটু আগে বললেন আপনি হাঁটতে বেরিয়ে দেখেছেন এখন বলছেন আরো অনেকে দেখেছে?'


'কথা না বাড়িয়ে সত্যিটা বলো।'


' হাত ছাড়ুন।'


' ছাড়ব না।'


মতি হাত ছাড়ছে না দেখে মাহতিম তার নাক বরাবর ঘু*/ষি মা///রে। নাক ফে//টে র*/ক্ত পড়তে থাকে। অদৃশ্য মার খেয়ে মতি চমকে উঠে। ব্যথার দিকে খেয়াল করল না সে।বলল,' কে মা/*র/ল আমাকে? এখানে কিছু তো গোলমাল হচ্ছে। আমি খালি চোখে দেখতে পাচ্ছি না।'


' নিজেকে গুটিয়ে নিন, আর চলে যান।' অহনা রেগে চলে যেতেই মতি আবারো হাত চেপে ধরে।

মাহতিম কন্ট্রোল হারিয়ে ধা'ক্কা দেয় তাকে। মতি এবার কিছুটা ভয় পেল। কিছু বলতে যাবে, তখনি ময়না ডাকল অহনাকে। পেছনে পড়ে যাওয়ায় সবাই আবার ফিরে এলো। মতির এমন হাল দেখে রোস্তম জানতে চায় কি হয়েছে! মতি কোনো কথা না বলে প্রস্থান করে। অহনা 


দাঁয়সাড়া দাঁড়িয়ে থাকে। মতিকে নিয়ে ভাবছে সে। ভ/য় পাচ্ছে এটা ভেবে, একদিন বিষয়টা সবাই জেনে যাবে, খুব শিঘ্রই। ময়না ওর কাঁধে হাত রেখে ঝাঁকি দিতেই অহনার হুঁশ ফিরে। সবার সাথে আবার চলতে থাকে।


দুপুর হতেই সবাই ফিরে আসে বাড়িতে। ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে নেয়। বাড়িতে মাত্র তিনটা রুম। একটায় রোস্তম থাকে, বাকি দুইটায় অহনা ও তার বন্ধুরা। ছেলেদের জন্য একটা রুম মেয়েদের জন্য একটা। বিকেলে সবাই শুয়ে আছে। ইরা আর রুমি দিনের তোলা সব ছবি স্ক্রল করে দেখছে। ময়না অহনার পাশেই তার কোমর জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে।


ইরা আর রুমির ছবি তোলা দেখে মাহতিম বলল,' মেয়েরা এতো ছবি তুলে কি পায়?'


অহনা হেসে বলল,' শান্তি।'


' আর কিছুতে কি শান্তি নেই?'


' এতো প্রশ্ন করো কেন? যেটা বুঝো না সেটা নিয়ে কথা বলতে নেই।'


মাহতিম চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার বলল,' মন খারাপ?'


অহনা ফিসফিস করে বলল,' তাতে তোমার কি? কথা বলো না। সবাই এমনিতেও আমাকে পাগল মনে করে।'


' বাইরে যাবে?'


' না।'


'‌আচ্ছা, তুমি কেন ছবি তুললে না?'


'‌আমার ভালো লাগে না।'


' কেন? তোমার কি শান্তি পেতে ইচ্ছে করে না?'


' সবার ভালো লাগা এক না। মেয়েরা স্বভাবত অনেক ছবি তুলে। আমি নই।'


' সেটা দেখতেই পেলাম। প্রায় হাজারটা ছবি তুলল। কিন্তু তুলে লাভ কি, বসে বসে এখন সব ডিলেট করছে। একটু পর সেখান থেকে পাঁচটা ছবি অবশিষ্ট থাকবে শুধু।'


' কি বলতে চাও?'


' তেমন কিছু না। কথা হলো, ডিলেট‌ই যখন করবে, তখন এতো ছবি তোলার মানে কি?'


' সেটা ওদের ব্যাপার।'


ময়না উঠে বলল,' আপা তুমি কার সাথে কথা বলছ?'


অহনা মাহতিমের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙায়। মাহতিম বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। অহনা বলল,' মনে মনে!'


ময়না যথাযথ উত্তর না পেয়ে আবারো শুয়ে পড়ে। অহনা উঠে পড়ে। বাইরে বেড়িয়ে দেখতে পায় মাহতিম কল পাড়ে থাকা একটি বেঞ্চের মধ্যে বসে আছে। অহনা পেছন থেকে তার কাঁধে হাত রাখে। মুহুর্তেই তা ভেদ করে বেরিয়ে আসল তার বুক বরাবর। মাহতিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অহনা দেখতে পায় তার চোখদুটো জ্বলজ্বল করছে। অহনার মনটাও হুঁ হুঁ করে উঠে,

' কাঁদছ নাকি?'


মাহতিম নিজেকে সামলে নেয়,' ক‌ই নাতো।'


' আমি বুঝতে পারছি। কেন কষ্ট পাচ্ছ?'


' একদম না। বেশি ভাবছ।'


' আমি ভুল বলিনি। তোমার চোখ পড়তে পারি আমি।'


মাহতিম অহনার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দেয়,

' আচ্ছা, মৃ/*ত মানুষ কি ভালোবাসার অধিকার রাখে?'


অহনা এমন প্রশ্ন শুনে উত্তর খুঁজে পায় না। নির্বাক দৃষ্টিতে তাকায় মাহতিমের দিকে। মাহতিম আবার বলে,' মৃ*/ত মানুষের কি কষ্ট হয়?'


অহনা এবার উত্তর দেয়,' ভালোবাসার অধিকার সবার আছে। কষ্ট সবার হয়। কিন্তু তুমি এসব কেন বলছ?'


' আমার কষ্ট হয় কেন?'


' ধুর বোকা, তুমি কি আর...'


অহনা থেমে যায়। নিরবতা গ্রাস করে নেয় তাকে। বুকে কেমন চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। কেমন একটা খাপছাড়া ভাব তার মনটাকে বিষিয়ে তুলে। হা/রা/নো/র ভ*য় জেগে ওঠে।


রোস্তম অহনার মায়ের ছবিটা দেখছিল। কান্নাভেজা চোখ তার। ছবিটায় হাত বুলিয়ে বলল,' মেয়েটাকে কোনো কূল কিনারা না করে চলে গেলে তুমি! স্বা-র্থ/পর তুমি। আমি কিভাবে কি করব? তুমি কি জানো, বাবা না থাকলেও মা তার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারে। কিন্তু মা না থাকলে বাবা কেন পারে না? সবাই এটাই বলে। আমি জানি, আমি পারব মেয়েটাকে ভালোভাবে রাখতে, তবুও ভ\য় হয়, তুমি থাকলে সবকিছু আরো ভালো হতো।'


দরজায় কড়া নাড়ে কেউ। রোস্তম চোখ-মুখ মুছে দরজা খুলে দেয়। মধ্যবয়স্ক একটি লোক এসেছে। রোস্তম আসার কারণ জিজ্ঞেস করতে বলল,' কর্তা আমনেরে যাইতে ক‌ইছে।'


রোস্তম ভ/য় পেয়ে যায়। মোড়লকে তার ভালো মনে হয় কিন্তু বড়লোকদের সে বিশ্বাস করে না। কখন কি ঝা*মে/লা দিয়ে বসে বলা যায় না। লোকটা আবার বলল,' কর্তা বলেছে আছরের পর যাইতে। কথা আছে নাকি।'


চলে যায় লোকটি। রোস্তম বিভোর হয়ে ভাবে, কোনো ভুল করেছে কিনা। হঠাৎ ডা/কা/তে রোস্তম ভ/য় পেয়ে যায়। কিভাবে ক্ষমা চাইবে এই বিষয়টা কয়েকবার ভেবে নেয়..... 


চলবে......

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...