Ads

https://www.cpmrevenuegate.com/b8yhybmrq8?key=9f4e3679f1c8c81a3529870bf1b4e18f

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

ছায়া_মানব_পর্ব-৯



৯.

অহনা লুকিয়ে লুকিয়ে বের হ‌ওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। লোকটা চলে গেলেই অহনা‌ গেইটে যায়। বের হয়ে বাড়ি যায়। 


বিছানায় বসে মুখে এক হাত রেখে অহনা ভাবতে থাকে, কি করা যায়। রোস্তম আসে,' কিছু পেলি?'


 অহনার দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে,' নাগো বাবা, পাইনি কিছু। তবে পেয়ে যাব। ও আমাকে আপা বলে ডেকেছে যেহেতু, আমি ওকে খুঁজে বের করবোই।'


' তবে আর খুঁজে কাজ নেই। কিছু পাসনি যেহেতু আর পাবিও না। তুই আর ভাবিস না মেয়েটাকে নিয়ে।'


' এটা কেমন কথা বলছ বাবা? ও আমার বোন। আমি কি আমার বোনকে খুঁজব না? বের করবোই, যেখানেই থাকুক। পারলে পাতাল থেকেও খুঁজে বের করব।'


অহনা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বাড়ির পেছনের পরিত্যক্ত জায়গায় গাছের আড়ালে বসে থাকে। সাথে নিয়ে এসেছে ময়নার ঘর থেকে নিয়ে আসা রুমালটা। অহনা চোখ বুলায় রুমালের উপর। কিছু চিহ্ন আর আঁকাআঁকি করে রেখেছে। খুব সূক্ষ্ম নজরে দেখল, ছোট ছোট ঘরগুলোতে বাংলা বর্ণমালার কয়েকটা অক্ষর, তা আ হে ব সো ফ ল। অহনা অক্ষরগুলো একে একে সাজানোর চেষ্টা করে। অনেকক্ষণ পর বের করে এর আসল মানে। একটা নাম সোহেল এবং অপরটি আফতাব। রুমালের শেষাংশে ছোট একটি মেয়ের চেহারা ফুটে উঠেছে, চোখে পানি, তার কাঁধে হাত রেখে আছে আরো কিছু মেয়ে। 


নাম দুটো অহনার অচেনা মনে হলো। ঘরে গিয়ে রোস্তমকে জিজ্ঞেস করে,' বাবা, আফতাব বা সোহেল নামের কাউকে চেনো?'


' হ, পাশের এলাকার, বড় বাড়ির মালিক আর তার ছেলে।'


' বড় বাড়ি কোনটা বাবা?'


' ময়নার শশুর বাড়ি বললি না। সেটাকেই সবাই বড় বাড়ি বলে।'


অহনার কাছে আরো স্পষ্ট হয়ে গেল যে কিছু একটা বিষয় নিশ্চয় আছে। কিন্তু এখন কি করা উচিত। অহনা বসে বসে ভাবে, প্রথমে সে ঐ বাড়িতে যাবে, গিয়ে দেখবে ময়না আছে কিনা। তারপর পদক্ষেপ নেবে।


কল আসে ইরার। অহনার ভাবনায় ছেদ পড়ল। কল ধরে,

' হ্যালো।'


' হ্যালো পরে বলিস। আগে বল ঐদিন দেখা করলি না কেন?'


' বাবা কল করেছিল, তাই গ্রামের বাড়ি এসেছি।'


' আমাদের কিছু বললি না। হঠাৎ কেন গেলি?'


' আমার মা....' অহনার গলা নরম হয়ে আসে। বলতে পারছে না। হঠাৎ মায়ের কথা মনে হতেই বুক চিঁড়ে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে।


' কিরে পানসা, কিছু বল।'


' আমার মা আর নেই। চলে গেছে আমাকে একা রেখে।'


' যা হয় ভালোর জন্য হয়। তুই কাঁদিস না, তোকে ভেঙে পড়লে হবে না। তোর বাবা কত কষ্ট করে ক্ষেতে-খামারে, তুই ভেঙে পড়লে তাকে কে সামলাবে? তোকে কিছু করতে হবে তোর বাবার জন্য।'


অহনা কান্না থামায়,' ঠিক বলেছিস। আমিতো স্ট্রং, আমি কাঁদবো না।'


' এখন বল, কেমন আছিস?'


' এইতো ভালো। সবাই কেমন আছে?'


' একদম পাক্কা আছে সবাই। তবে তুই ছাড়া ভালো লাগছে না। যদিও তোকে অল টাইম পানসা বলি, তবুও তুই না থাকলে আমাদের আনন্দ আরো পানসে হয়ে যায়।'


' থাক আর বলতে হবে না। তোদের কাছে তো আমার দামটাই নেই।'


' একদম না। তুই আমাদের গুলুমুলু, সুন্দরী বান্ধবী। তবে রাগ করেছি আমি তোর সাথে! এক বালতি রাগ করেছি!'


' এতো রাগ কেন আমার উপর? নাকি বয়ফ্রেন্ডের সব রাগ আমার উপর ঝাঁড়বি?'


' না। রাগ করেছি তোর বোকামি দেখে। ঠিক আছে তুই বিপদের সময় চলে গেছিস। কিন্তু এরপর কি হলো? আমাদের একবার কল করে বলতে পারতি, আমরাও দেখতে যেতাম। এমনকি দুইদিন হয়ে গেল কোনো কল করলি না, আমার কলটাও ব্যাক করলি না।'


' গ্রামে কারেন্টের সমস্যা খুব। চার্জ দিতে পারিনি।'


' আচ্ছা বুঝলাম। আমরা সবাই কি তোকে দেখতে আসব?'


' না লাগবে না। আমি ময়নাকে পেলেই চলে যাব।'


' ময়না কে?'


' আমার বোন।'


' তোর তো কোনো বোন ছিল না। কোথা থেকে আমদানি করলি?'


' সে অনেক কথা। পরে সময় করে বলব, এখন রাখছি।'


ইরা তবুও মানল না। সে সব বন্ধুদের জানিয়ে দিল বিষয়টা। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা অহনার গ্রামের বাড়ি যাবে। পরদিন‌ই র‌ওনা হবে।


রাত হয়ে এসেছে অহনার মনটা খুব খারাপ। এখনো সে ময়নাকে খুঁজে পায়নি। ক্ষতি হবে ভেবে আরো চিন্তায় পড়ে। 


রাত হয়ে এসেছে। অহনা টি শার্ট আর প্লাজু পড়ে নেয়। ব‌ই হাতে নিয়ে শুয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভীষণ হাঁসফাঁস করতে থাকে। ঘরের দরজার দিকে তাকাতেই একটি ছায়া দেখতে পায়।

'চ' সূচক শব্দ করে বলল,' তুমিতো আমাকে একদম ভয় পাইয়ে দিলে।'


মাহতিম ওর পাশে এসে বসে। কোনো কথা বলে না। অহনা আবার বলল,' সবসময় এতো চুপচাপ থাক কেন? ভাল্লাগেনা।'


কিছুই বলে না‌ মাহতিম। জ্বলজ্বল চোখে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে অহনার দিকে। অহনা আবারো বলল,' সবসময় এভাবে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কি আর কিছুই করতে পারো না?'


এবারও কোনো উত্তর না পেয়ে বালিশ ছুঁড়ে মারে মাহতিমের দিকে। বালিশটা তার দেহ ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

' তুমি খুব বোকা।' মাহতিম মুখ খুলল।


' তোমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত বোকা। না হয় এভাবে তাকিয়ে না থেকে এতোক্ষণ কিছু না কিছু বলতে।'


' অপ্রয়োজনে কথা বলো তুমি, ঠিক আগের মতো!'


' আমি অপ্রয়োজনে কথা বলি না তুমি প্রয়োজনে কথা বলো না।'


' ঝগড়া করো না। কোথাও যাবে? তোমার মন খারাপ বুঝতে পেরেছি।'


' আমি কাল কি করব সেটাও জানো কিন্তু ময়নাকে খুঁজতে কোনো সাহায্য করতে পারছ না কেন? আগে এই উত্তর দাও।'


কিছু বলে না মাহতিম। চুপ হয়ে যায় একদম। অহনা আবার বলে,' ইচ্ছে করছে তোমার মাথায় কয়েক হাজার পাথর ভাঙ্গি। কাজের সময় তুমি চুপ।'


' আমি তোমার জন্য ফিরে এসেছি আবার অন্য কারো জন্যে নয়।'


' যাই হোক। জানি না তুমি কোথা থেকে, কেন এসেছো। কিন্তু তবুও মনে হয় তোমাকে যুগ যুগ ধরে চিনি।'


' যাবে?'


' কোথায়।'


'চলো আগে।'


মাহতিম ওকে নিয়ে যায় নিরিবিলি একটা জায়গায়। অহনা আশ্চর্য হয়। ওরা একটি পাহাড়ের উপর। জোনাকিদের মেলা, নিচে নদী, পাখিদের ছন্দ, আকাশের নীলাভ আভা, চারিদিকে পূর্ণিমার প্রখর আলো, এক অপরূপ দৃশ্য। অহনা খুশিতে নেচে উঠে,

' এটা কোন জায়গা?'


মাহতিম উত্তর দেয় না। অহনা খুশি মনে ঝর্ণা ছুঁয়ে দেখে। জোনাকিদের সাথে মজা করে। মাহতিম অবাক হয়ে দেখে। তার চোখ থেকে আগুনের তেজটা কমে এসেছে।


' তোমার চোখদুটো ভয়ঙ্কর। যে কেউ দেখলে ভয়ে জ্ঞান হারাবে। আবার বলো না আমি কেন ভয় পাচ্ছি না! আসলে আমি কোনো কিছুকেই ভয় পাই না। ভয় আমাকে ভয় পায়, তাই আমার কাছে এসেও দূরে যায়।'


অহনার কথা মাহতিম বুঝতে পারে না। তবে তার চোখ মুখের ভাষাটা বুঝে নেয়। এই মুহূর্তে অহনা খুশি।


অনেকক্ষণ হয়ে এসেছে। মাহতিম বলল,' এবার তোমার যাওয়া উচিত।'


' না, আমি যাব না। আমি এখানেই আজ রাত কাটিয়ে দেব।'


মাহতিম কিছু না বলেই চোখের পলকে অহনাকে বাড়ি নিয়ে আসে।

রাগে ফুঁসতে থাকে অহনা,

' কেন নিয়ে এলে আমায়? আমি ওখানে শান্তিতে ছিলাম। জানে আমার কেমন সুনসান লাগে।'


' অনেকক্ষণ না দেখে‌ তোমার বাবা এসেছিল ঘরে।'


' তাতে কি হয়েছে? তুমি নিয়ে এলে কেন? এখন তোমাকে এর শাস্তি পেতে হবে।'


অহনা মাহতিমকে ধরতে গিয়েও পারে না। কারণ সে অদৃশ্য, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। অহনা রাগের বশে বলেই ফেলল,' এখন থেকে তিন ঘন্টা তুমি আমার কাছেও আসবে না, কথা বলবে না, একদম আমার ঘরের বাইরে থাকবে। যদি আসো তো.....'


তার আগেই মাহতিম চলে যায়। কষ্ট পেয়েছে হয়তো বা অভিমান। 


রোস্তম ঘরে প্রবেশ করে,' ঘরের কি অবস্থা করেছিস, মনে হচ্ছে কাউকে পিটি*য়েছিস।'


অহনা কিছু বলল না। রোস্তম ওর পাশে এসে বসল, মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। রাতের খাবার খেতে বলল তাকে। অহনা খাবে না বলল। রোস্তম বলল,' তবে আমিও আজ উপোস করলাম।'


বাবার এমন জেদ দেখে অহনাও আর রাগ করে থাকতে পারল না। রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। তবে মনে অনুশোচনা হতে থাকে মাহতিমের জন্য। ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ে।


রাত গভীর হতেই মুখোশধারী একজন লোক প্রবেশ করে অহনার ঘরে। অজ্ঞান করে তাকে কাঁধে তুলে নেয়.....


চলবে.....

কোন মন্তব্য নেই:

ছায়া_মানব_পর্ব-২১

  অহনা জানালার কাছে যেতেই মতি এগিয়ে আসে। অহনা জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে মতি ধরে ফেলে, '‌আমাকে দেখতে ভালো লাগে না, সেটা না হয় মানলাম। ...